পরিবার ও ঐতিহ্য

পরিবার ও ঐতিহ্য

পূর্বসূরিদের সততা, নীতিবোধ ও সুদৃঢ় শেকড়ের গল্প

একটি সুদৃঢ় ইমারতের ভিত্তি যেমন তার গভীর ও অদৃশ্য শেকড়ে নিহিত থাকে, তেমনি একটি সফল, আদর্শ ও মর্যাদাবান পরিবারের পথচলাও গড়ে ওঠে পূর্বসূরিদের ত্যাগের ও নীতিবোধের ওপর। আমাদের পারিবারিক শেকড়, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গল্পটি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে বৃহত্তর বাকেরগঞ্জ জেলার দক্ষিণ জনপদের সাথে; যে অঞ্চলের প্রশাসনিক ও ঐতিহাসিক পরিমণ্ডলেই গড়ে উঠেছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের পদচারণা।

পরিবার ও ঐতিহ্য - লায়ন মোহাম্মদ নিলয় পারভেজ
ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক বন্ধন ও সুদৃঢ় শেকড়

হাওলাদার বংশের প্রবীণ ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষের ইতিহাস

লায়ন মোহাম্মদ নিলয় পারভেজের দাদা মরহুম আফতাব উদ্দিন হাওলাদার এবং দাদী মরহুমা গোলাপজান বিবি। মরহুম আফতাব উদ্দিন হাওলাদার তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত ঝালকাঠির রাজাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন। তৎকালীন ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের প্রশাসনিক বিন্যাসে এই অঞ্চলটি বৃহত্তর বাকেরগঞ্জ জেলার অংশ ছিল।

তৎকালীন ভূমি ব্যবস্থায় ‘হাওলা’ বলতে মূলত একটি নির্দিষ্ট ভূসম্পত্তি বা সাব-এস্টেটকে বোঝানো হতো, যার স্বত্বাধিকারী বা মালিক হতেন একজন হাওলাদার। সেসময়ে বড় কোনো জমিদারি বা এস্টেটের অধীনে জমির রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং এলাকার স্থানীয় বিচারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে হাওলাদারদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ। মরহুম আফতাব উদ্দিন হাওলাদার তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার বড়ইয়া গ্রাম (বর্তমান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার বড়ইয়া গ্রাম)-এর একজন অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত হাওলাদার ও স্থানীয় বিচারক ছিলেন। সেসময়ে সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী পরিবারগুলোর হাতে যে হাওলার প্রশাসনিক ও ভূস্বত্ব থাকত, তিনি ছিলেন সেই হাওলার অন্যতম মালিক ও প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। এই হাওলাদারি ঐতিহ্য, সততা এবং এলাকার সামাজিক বিচারিক নেতৃত্বের মধ্য দিয়েই মূলত এই বংশের পরিচিতি ও শেকড় জনপদে সুদৃঢ় হয়েছিল।

মরহুম আফতাব উদ্দিন হাওলাদার ও মরহুম গোলাপজান বিবি দম্পতির ঔরসে জন্ম নেন তিন সন্তান:

  • 🌺 বড় সন্তান: কন্যা মজিতন বিবি
  • 🌿 মেজো সন্তান: বড় ছেলে মরহুম আব্দুল মালেক হাওলাদার
  • 🌱 ছোট সন্তান: কনিষ্ঠ ছেলে মোহাম্মদ হযরত আলী হাওলাদার

পিতা মোহাম্মদ হযরত আলী হাওলাদার ও সততার দৃষ্টান্ত

এই বংশধারার কনিষ্ঠ সন্তান মোহাম্মদ হযরত আলী হাওলাদার তাঁর কর্মজীবনে পেশায় একজন ল্যান্ড সার্ভেয়ার। তৎকালীন পাকিস্তান আমলে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের একজন সরকারি সার্ভেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সেই সরকারি চাকরি ত্যাগ করে তিনি গ্রামে চলে আসেন এবং দীর্ঘ ৫৫ বছর যাবত গ্রামেই স্থানীয় ল্যান্ড সার্ভেয়ার বা আমিন হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একজন অভিজ্ঞ সার্ভেয়ার হিসেবে তাঁর রয়েছে ব্যাপক সুনাম।

আশির দশকের (১৯৮০-এর পর থেকে) গোড়ার দিকে মোহাম্মদ হযরত আলী হাওলাদার তাঁর পরিবার নিয়ে বর্তমান বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের নিয়ামতি বন্দরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

মোহাম্মদ হযরত আলী হাওলাদারের জীবনসঙ্গিনী এবং লায়ন মোহাম্মদ নিলয় পারভেজের মায়ের নাম মোসাম্মাৎ হাসিনা বেগম; তিনি একজন মহীয়সী নারী ও গৃহিণী। মোহাম্মদ হযরত আলী হাওলাদার ও মোসাম্মাৎ হাসিনা বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম নেন চার ভাইবোন:

  • 🔹 বড় সন্তান: মোহাম্মদ কাওসার হোসেন
  • 🔹 মেজো সন্তান: মোসাম্মাৎ শাহানাজ পারভীন
  • 🔹 সেজো সন্তান: মোসাম্মাৎ শামসুন নাহার
  • 🔹 ছোট সন্তান: মোহাম্মদ নিলয় পারভেজ

বর্তমান পরিবার ও বাকেরগঞ্জের সাথে আত্মার আত্মিক টান

লায়ন মোহাম্মদ নিলয় পারভেজের নিজের পরিবার গঠিত হয়েছে তাঁর সহধর্মিণী মিসেস নিসাঁ পারভেজ এবং দুই পুত্রসন্তানকে নিয়ে। তাঁর বড় সন্তানের নাম মোহাম্মদ নিবির আলমাস এবং ছোট সন্তানের নাম মোহাম্মদ নিরিক আলমাস; উভয়েই বর্তমানে শিক্ষাজীবন ও ছাত্রাবস্থায় রয়েছে।

পিতা মোহাম্মদ হযরত আলী হাওলাদারের নিয়ামতিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার সুবাদে, লায়ন মোহাম্মদ নিলয় পারভেজের শৈশব, কৈশোর, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং জীবনের বিশেষ একটি দীর্ঘ সময় কাটে বাকেরগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত এই নিয়ামতি অঞ্চলেই। তবে ইতিহাস ও ঐতিহ্য ঘাঁটলে স্পষ্ট হয় যে, তাঁর পূর্বপুরুষদের মূল শেকড়ও এককালের বৃহত্তর বাকেরগঞ্জ জেলারই অংশ ছিল। ফলে নিয়ামতির মাটি ও মানুষের পাশাপাশি পুরো বাকেরগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি রয়েছে তাঁর এক গভীর ও আলাদা মায়া।