মিশন বাকেরগঞ্জ

🟢 স্মার্ট বাকেরগঞ্জ বিনির্মাণে ৩০ দফা রূপরেখা: একটি আত্মনির্ভরশীল ও আধুনিক মডেল উপজেলার মহাপরিকল্পনা 🟢

একটি অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন কোনো আংশিক বা সাময়িক পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না; বরং তার জন্য প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদী, সুপরিকল্পিত এবং বাস্তবমুখী মহাপরিকল্পনা। বরিশাল জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এবং নদীবেষ্টিত অঞ্চল আমাদের এই বাকেরগঞ্জ উপজেলা। ১৪টি ইউনিয়ন এবং ১টি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই বিশাল জনপদের প্রতিটি মানুষের জীবনের গুণগত মান পরিবর্তন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রণয়ন করেছি একটি সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট ৩০ দফার উন্নয়ন ইশতেহার।

আমাদের এই রূপরেখা কেবল কিছু প্রতিশ্রুতি নয়, এটি বাকেরগঞ্জের भौगोलिक সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক বাস্তবায়ন এবং প্রান্তিক মানুষের মৌলিক অধিকারকে কেন্দ্র করে তৈরি করা একটি মাস্টারপ্ল্যান।

🟨 ১. অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও স্মার্ট কর্মসংস্থান:

우리 তরুণ প্রজন্মের মেধা ও শক্তিকে কাজে লাগাতে আমরা কেবল সনাতন কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভর করছি না। বাকেরগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরীকে পূর্ণাঙ্গ রূপে সচল করে স্থানীয় যোগ্য তরুণ-তরুণীদের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর পাশাপাশি, তথ্যপ্রযুক্তির বৈশ্বিক বাজারের সাথে আমাদের যুবসমাজকে যুক্ত করতে হাইটেক পার্ক সচল করার কার্যকর উদ্যোগ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ডেডিকেটেড ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি প্রশিক্ষণ হাব গড়ে তোলা হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিকাশের লক্ষ্যে আমরা নামমাত্র ভাড়ায় স্ট্রিট ফুড কোর্ট এবং সাপ্তাহিক উদ্যোক্তা মেলার প্রবর্তন করব, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করবে।

🟨 ২. কৃষি, মৎস্য ও পশুসম্পদের বৈপ্লবিক উন্নয়ন:

নদীবেষ্টিত বাকেরগঞ্জের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি আমাদের কৃষক এবং জেলেরা। বিষখালি ও তুলাতলী নদীর মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং প্রকৃত জেলেদের সরকারি অনুদান ও স্থায়ী সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া হবে। প্রান্তিক কৃষকদের জন্য উন্নত সার-বীজ সহজলভ্য করার পাশাপাশি, উৎপাদকারী ফসলের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপন করা হবে। একই সাথে ডেইরি ও পোল্ট্রি খামারিদের জন্য আধুনিক ভ্যাকসিনের সহজলভ্যতা এবং দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে একটি দুগ্ধ ও কৃষি উদ্বৃত্ত অঞ্চলে রূপান্তর করা হবে।

🟨 ৩. সুশাসন, জবাবদিহিতা ও সামাজিক নিরাপত্তা:

একটি আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার প্রধান শর্ত হলো আইনের শাসন এবং স্বচ্ছতা। আমরা স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস পর পর সর্বস্তরের পেশাজীবী, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত ‘গণশুনানি’-র ব্যবস্থা করব। কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি এবং মাদকের করাল গ্রাস থেকে আমাদের সন্তান ও পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে সমগ্র উপজেলা জুড়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হবে। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের আইনি সুরক্ষায় বিনামূল্যে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম জোরদার করা হবে。

🟨 ৪. শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা:

বাকেরগঞ্জের মাটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজ এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন আমাদের তরুণদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করবে। প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক পাবলিক লাইব্রেরি ও তথ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা ও আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। প্রধান বাজার ও পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের শোধনাগার এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিককে আধুনিক স্মার্ট লাইফস্টাইলের আওতায় আনা হবে।

🟨 ৫. ঐতিহ্য রক্ষা, পর্যটন ও চরাঞ্চলের উন্নয়ন:

তুলাতলী ও বিষখালি নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যা বাকেরগঞ্জকে জাতীয় পর্যায়ে নতুনভাবে রি-ব্র্যান্ড করবে। নদী ভাঙন কবলিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী সিসিブロック ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ফসলি জমি ও মানুষের ভিটেমাটি রক্ষা করা হবে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের বিচ্ছিন্ন ও ডুগম চরাঞ্চলগুলোকে অবহেলার অন্ধকারে না রেখে সোলার প্যানেল, মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার এবং আপদকালীন জরুরি চিকিৎসার জন্য সার্বক্ষণিক ‘ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স’ চালু করা হবে।